নৈশ (রাত্রিকালীন) মাদরাসা

মাদরাসাতুল হুদা দিনাজপুর

(বয়স্ক ও কর্মব্যস্ত লোকদের দ্বীন শেখার আদর্শ প্রতিষ্ঠান)

আমাদের মাদরাসা সম্পর্কে...

এটি একটি নৈশ (রাত্রিকালীন)মাদরাসা। এখানে স্কুল, কলেজ,ভার্সিটির ছাত্র, শিক্ষক, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী শিক্ষিত,-অশিক্ষিত কর্মব্যস্ত যুবক,বয়ষ্ক ভাইদের জন্য মাগরিব/ফজরের পর ইলমে দ্বীন শিক্ষা করে আলেম হওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে। এ-ই প্রতিষ্ঠানটি দেশ বরেন্য উলামায়ে কেরামের তত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

৫+

বছরের অভিজ্ঞতা

৫০০+

সফল শিক্ষার্থী

৮+

উস্তায

নৈশ মাদ্রাসা কি ও কেন?​

অধিকাংশ মানুষ সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও তারা দ্বীন শেখার কোন সুযোগ পায়নি। কর্মব্যস্ততার কারণে তারা নিয়মিত মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়না। দাওয়াত-তাবলীগ, হককানী পীর বা শাইখের সংস্পর্শে ঈমান ও ইয়াকীন কিছুটা মজবুত এবং আমলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হলেও উলামায়ে কেরামের কাছে ইলম শেখার নিয়মতান্ত্রিক কোন ব্যবস্থা না থাকায় তারা ঈমান ইয়াকীনের সচ্ছতা অর্জন ও সহীহভাবে আমল করতে পারে না। অথচ এ ইলম তো সবার জন্য ফরজ। তাই প্রত্যেক মুসলমানকে দ্বীন শিক্ষার সে সুযোগ করে দিতেই নৈশ মাদ্রাসা ও বয়স্ক শিক্ষার আয়োজন।

দ্বীনি শিক্ষা কোন বয়সের সাথে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। শিশুদের যেমন শিক্ষা জরুরী, তেমনি যারা শৈশবে দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করতে পারেনি তারা বয়স্ক হলেও তাদের দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করা জরুরী।

ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ‘নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ বয়স্ক অবস্থায় ইলম অর্জন করেছেন’। (বুখারী,১/১৭)

হযরত উমর (রা.) বলেন, আমি এবং আমার এক প্রতিবেশী আনসারী (ইতবান ইবনে মালেক) মদীনার শহরতলীতে বনী উমাইয়্যা ইবনে যায়েদ গোত্রে বসবাস করতাম। আমরা পালাক্রমে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসতাম। সে একদিন আসত আর আমি একদিন আসতাম। আমি যেদিন আসতাম, ঐ দিনের ওহী (দ্বীনি ইলম) ইত্যাদি সংবাদ তার কাছে নিয়ে আসতাম। আবার সে যে দিন রাসূলের দরবারে আসত সেও অনুরূপ করত..। (সহীহ বুখারী, ১: ১৯)

অর্থাৎ তারা ইলম অর্জনের জন্য দিন ভাগ করে নিয়েছিলেন। একজন একদিন শিখে গিয়ে অপরজনকে শেখাতেন। পরের দিন অন্যজন এসে শিখে গিয়ে অপরজনকে শেখাতেন।

হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিতঃ কিছু লোক নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট আসল, তারা বলল, আমাদের সঙ্গে কিছু লোককে কুরআন-সুন্নাহ শিক্ষাদানের জন্য পাঠান। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৭০ জন আনসারীকে তাদের কাছে পাঠালেন। যাদেরকে কুরা বলা হত। তাদের মধ্যে আমার মামা ‘হারাম’ও ছিলেন। তারা রাত্রে কুরআনে কারীম পড়তেন এবং শিক্ষা গ্রহণ করতেন। দিনের বেলায় তারা পানি এনে মসজিদে রাখতেন এবং কাঠ সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। তা দ্বারা আহলে সুফফা ও দরিদ্রদের জন্য খাদ্য ক্রয় করতেন।…… (সহীহ মুসলিম, ২: ১৪৯, ইমারত অধ্যায়)

এতে বুঝা যায়, বহু সাহাবায়ে কেরাম দিনের বেলা কাজকর্মে ব্যস্ত থেকেও রাতের বেলা দ্বীন শিখতেন।

আবূ আনাস মালেক ইবনে আবী আমির (রা.) বলেন, আমি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহর কাছে ছিলাম। তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আবূ মুহাম্মাদ! আল্লাহর কসম! আমরা জানি না, এই ইয়ামানী (উদ্দেশ্যে হযরত আবূ হুরায়রা) কি আল্লাহর রাসূল সম্পর্কে বেশি জানে, না আপনারা বেশি জানেন? সে তো আল্লাহর রাসুল সম্পর্কে এমন কথা বলে যা তিনি বলেননি? উত্তরে হযরত তালহা (রা.) বললেন, আল্লাহর কসম আমরা এতে কোন সন্দেহ পোষণ করিনা যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এমন কিছু শুনেছেন, যা আমরা শুনিনি এবং এমন কিছু জেনেছেন যা আমরা জানিনি। আমরা ছিলাম সম্পদশালী। আমাদের বাড়ী-ঘর, পরিবার-পরিজন ছিল। আমরা আল্লাহর নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সকাল-সন্ধ্যা আসতাম, এরপর ফিরে যেতাম। আর আবূ হুরায়রার সম্পদ ছিল না। পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি ছিল না। তিনি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে থাকতেন এবং আল্লাহর রাসূল যেখানে যেতেন তিনিও সেখানে যেতেন। আমাদের সন্দেহ নেই যে, তিনি এমন কিছু শিখেছেন যা আমরা শিখিনি এবং এমন কিছু শুনেছেন যা আমরা শুনিনি। (মুস্তাদরাক হাকীম, ৪, ২৩০, হাদীস নং ৬২৮১)

এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, কর্মব্যস্ত সাহাবায়ে কেরাম সকাল এবং সন্ধ্যায় আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে দ্বীনি ইলম শেখার জন্য মেহনত করতেন।

আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন খুতবায় একদল মুসলমান সম্পর্কে খুব প্রশংসা করলেন। অতঃপর বললেন, “ঐ সকল সম্প্রদায়ের কি হল যে, তারা তাদের প্রতিবেশিদেরকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে না এবং তাদেরকে সৎকাজের আদেশ করে না ও অসৎ কাজ থেকে বাধা প্রদান করে না? আর ঐ সকল সম্প্রদায়ের কি হল যে, তারা তাদের প্রতিবেশিদের থেকে দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করে না? আল্লাহর কসম! ঐ সকল সম্প্রদায় হয়তো তাদের প্রতিবেশিদেরকে দ্বীন শেখাবে, সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর প্রতিবেশি সম্প্রদায়ও তাদের থেকে দ্বীন শিখবে। নতুবা আমি তাদের দুনিয়াতে দ্রুত শাস্তি প্রদান করব। অতঃপর মিম্বার থেকে নেমে তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন। এরপর লোকেরা বলল, এদের দ্বারা আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাদেরকে উদ্দেশ্য নিয়েছেন? অন্যরা বলল, আমরা মনে করি যে, তিনি আশআ’রীদের উদ্দেশ্য নিয়েছেন। তারা দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত সম্প্রদায়। আর তাদের প্রতিবেশিরা অবুঝ ও বেদুঈন। এ খবর আশআ’রীদের নিকট পৌছলে তারা রাসূলুল্লাহ সল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এক সম্প্রদায়ের খুব প্রশংসা করেছেন আর আমাদের নিন্দা করেছেন। তাহলে আমাদের কি সমস্যা? তদুত্তরে তিনি বললেন, ঐ সকল সম্প্রদায় হয়তো তাদের প্রতিবেশিদেরকে দ্বীন শিখাবে, সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর প্রতিবেশি সম্প্রদায়ও তাদের থেকে দ্বীন শিখবে। নতুবা আমি তাদের দুনিয়াতে দ্রুত শাস্তি প্রদান করব। এরপর তারা বলল, আমরা কি অন্যদেরকে শেখাব? তদুত্তরে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পূর্বোক্ত কথাকে পুনরাবৃত্তি করলেন। তারাও তাদের কথা পূনরাবৃত্তি করল। এরপর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাঁর কথাকে পুনরাবৃত্তি করলেন। তারা বলল, তাহলে আমাদেরকে একটি বছর সুযোগ দিন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে এক বছর সুযোগ দিলেন, যাতে তারা তাদেরকে দ্বীনি শিক্ষা দান করতে পারেন। …… (কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ৮৪৫৩, ইবনুস সাকান বলেন, হাদীসটির সনদ গ্রহণযোগ্য)

এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, আলেমদের কর্তব্য, প্রতিবেশিদেরকে দ্বীন শেখানোর প্রতি পরিপূর্ণ যত্নবান হওয়া এবং সাধারণ মানুষেরও কর্তব্য প্রতিবেশী আলেমদের থেকে দ্বীন শেখার প্রতি পূর্ণ মনোযোগী হওয়া।

হযরত আশরাফ আলী থানবী (রহ.) বলেন,

প্রয়োজন পরিমাণ ইলমে দ্বীন হাসিল করা ফরযে আইন। কারো যদি ফরযে কিফায়া পরিমাণ ইলম হাসিল করার হিম্মত না হয়, তাহলে ফরযে আইন পরিমাণ তো অবশ্যই হাসিল করতে হবে। আজ কাল লোকেরা মনে করে যে, ইলমে দ্বীন শিখতে হলে আলেম হওয়ার পুরো নেসাব অবশ্যই পড়তে হবে। তা না হলে জাহেল থেকে যাবে। এটি জঘন্যতম ভুল।

যাদের আলেম হওয়ার সময় সুযোগ নেই, তারা দ্বীনের জরুরী বিষয়গুলো জেনে দুনিয়াবী কাজ-কর্মে লেগে যাবে। এতে তাদের এক বছর সময় লাগবে। এরচে’ বেশি নয়। এ সময়ের ভিতরে তারা কুরআন মাজীদ এক/দু’ পারা পড়ার পর জরুরী মাসাইল শিক্ষা করবে। এক বছর ব্যাপী এ সংক্ষিপ্ত কোর্সে গ্রামের লোকেরাও অংশ গ্রহণ করতে পারবে।

মোটকথা, দ্বীনের প্রয়োজনীয় আহকাম শেখার জন্য সকলকে এক বছর সময় অবশ্যই দিতে হবে। আমি এ সংক্ষিপ্ত সময় শুধু তাদের জন্য নির্বাচন করেছি যাদের পুরো কুরআন মাজীদ পড়ার সুযোগ নেই। তবে আরো কিছু সময় বাড়িয়ে পুরো কুরআন মাজীদ শিক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যারা আরবী পড়তে চায়, কিন্তু সময়-সুযোগ তাদের কম, এ ধরনের লোকদের জন্য জরুরী কিছু কিতাব নির্বাচন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাদেরকে অন্তত:পক্ষে আড়াই বছর সময় ব্যয় করতে হবে। এ সংক্ষিপ্ত কোর্স যারা সম্পন্ন করবে তারা ইলমী গভীরতায় পৌছাতে না পারলেও মাধ্যমিক স্তরের যোগ্যতাসম্পন্ন আলেম হতে পারবে। (কওমী মাদ্রাসা নেসাব ও নেযাম পৃ. ২৭ ও ২৯)

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা ইউসুফ বিননূরী (রহ.) বলেন,

এ প্রসঙ্গে আমার কামনা, আমাদের প্রধান প্রধান মাদ্রাসায় যেখানে ইলমী নেসাব ও ইলমী গভীরতার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে সেখানে এমন একটি সংক্ষিপ্ত কোর্স তাদের জন্য প্রণয়ন করা প্রয়োজন যারা প্রয়োজনমত সাধারণ শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন তারা শিক্ষক বা আলেম হতে চান না; বরং শুধুমাত্র নিজেদের দ্বীনি প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রেখে কুরআন- হাদীস ও ইসলামী বিদ্যাসমূহে অবগতি লাভ করতে চান। এজন্য অনধিক তিন বছরের কোর্স প্রণয়ন করা যেতে পারে। এতে ছরফ, নাহব, কুরআন, হাদীস ফিকহ, আকাইদ এবং আদব ও তারীখসহ সবই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এগুলো পড়ে তারা আরবী ভাষায় কথা বলতে ও লিখতে সক্ষম হওয়ার সাথে সাথে নিজ নিজ প্রয়োজন মিটাতে পারবে।

আমি যতদূর জানি, বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান চাহিদা এটি। প্রচুর সংখ্যক মানুষের মনে এ অদম্য আগ্রহ রয়েছে। এর একটি উপকার হবে এই যে, একজন জেনারেল গ্রাজুয়েট আলেমে দ্বীন হতে পারবে। সাথে সাথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকার হবে এই যে, দ্বীনি ও দুনিয়াবী শিক্ষায় যে ব্যবধান রয়েছে এবং দু’সম্প্রদায় মনোভাব ও কর্ম পন্থায় দু’মেরুতে অবস্থান করছে, তাদের সম্মিলনের ফলে সমাজে সুষম অবস্থা সৃষ্টি হবে। দু’সম্প্রদায় পরস্পর নিকটবর্তী হয়ে যাবে এবং দু’সম্প্রদায় যে কুধারণায় লিপ্ত রয়েছে সে পার্থক্য ঘুচে যাবে। এজন্য আমাদের তিনটি নেসাব প্রয়োজন হবে-

১. মুদাররিস আলেমের জন্য

২. বিশেষজ্ঞ আলেম তৈরীর জন্য

৩. শুধুমাত্র দ্বীনি প্রয়োজন মিটানোর জন্য আলেম হওয়ার নেসাব। (কওমী মাদ্রাসা: আকাবিরের ভাবনা, পৃ.৫৯)

হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস রহ. বলেন,

আলেমগণের নিকট আরজ, তাবলীগ-জামাআতের চলাফেরা এবং মেহনত ও কোশেশ দ্বারা সর্বসাধারণের মাঝে শুধু দ্বীনের আগ্রহ ও দ্বীনের মূল্য বোঝার যোগ্যতা সৃষ্টি করা যাবে এবং তাদেরকে দ্বীন শেখার জন্য প্রস্তুত করা যাবে। এরপর তাদেরকে দ্বীন শেখানো এবং দ্বীনি তরবিয়তের কাজ উলামায়ে কেরাম ও হক্কানী বুযুর্গানে দ্বীনের মনোযোগ ও প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্পন্ন হতে পারে। তাই এদিকে আপনাদের সদয় দৃষ্টির বড় প্রয়োজন। (মালফুযাত, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস রহ, সংকলনে মাওলানা মুহাম্মদ মনযূর নুমানী রহ. মালফুয নং ১৪২ ও ২১২)

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম সমাজ ও চিন্তাবিদ মনীষীগণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কল্পে বিজ্ঞ আলেমদের সুপরামর্শে আল-হুদা ইসলামী ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে ২০০৬ ঈ. সাল থেকে অদ্যাবধি দেশের বিভিন্ন এলাকায় নৈশ মাদ্রাসা পরিচালিত হয়ে আসছে এতে পেশাজীবি, কর্মজীবি, চাকুরিজীবি, সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ স্বতস্ফুর্তভাবে দ্বীন শিখতে এগিয়ে আসছেন।

* কুরআন-হাদীস তথা ইসলামী শরীআতের ইলম ও ইসলামী সংস্কৃতির ব্যাপক অনুশীলনের মাধ্যমে একদল সযোগ্য ও মুখলিস দ্বীনের সেবক তৈরী করা। যারা কুরআন-হাদীসের জ্ঞান, মানবিক গুণাবলী, আধ্যাত্মিক ও নৈতিক জ্ঞানসম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে দ্বীনের জন্য হবে নিবেদিত প্রাণ।

* সমাজ হতে সকল প্রকার শিরক-বিদ’আত দূর করে নির্ভুল আক্বীদা ও ইত্তিবায়ে সুন্নতের জযবা সৃষ্টি করা।

* ইসলামের আদর্শ ও সৌন্দর্যকে আধুনিক প্রচার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য উপায়ে বর্তমান সমাজের সামনে উপস্থাপনে যোগ্য করে তোলা।

নৈশ মাদ্রাসার যে সব বৈশিষ্ট্য

১। মাত্র আট বছরে দাওরা হাদীস (এম.এ সমমান) পর্যন্ত পড়ার সু-ব্যবস্থা।

২। সন্ধ্যাকালীন দরস (ক্লাস) হওয়ার ফলে কলেজ, ভার্সিটির ছাত্র-শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, চাকুরিজীবি, পেশাজীবি ও কর্মব্যস্ত ভাইদের দরসে (ক্লাশে) অংশগ্রহণের সুবিধা।

৩। সন্ধ্যাকালীন ব্যস্ত লোকদের জন্য ফজরের পর দরসে (ক্লাসে) অংশগ্রহণের সুবিধা।

৪। সপ্তাহে পাঁচদিন ৩ ঘন্টা করে ক্লাসের সুবিধা।

৫। শেষবর্ষে আল হাইআতুল উলইয়া লিল-জামি’য়াতিল কাওমিয়া বাংলাদেশ এর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সু-ব্যবস্থা।

৬। সেমিস্টার পদ্ধতিতে শিক্ষা দান।

৭। দ্বীনি ভাষা হিসেবে আরবী ভাষার উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান ও তা আয়ত্ত করণের নিমিত্তে আরবী কথোপকথনের উপর জোর প্রদান।

৮। বিশুদ্ধ ইসলামী চিন্তাধারায় প্রশিক্ষণের পাশপাশি বাতিল ফিরকা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য সাপ্তাহিক/পাক্ষিক/মাসিক আলোচনা।

৯। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যুগ-জিজ্ঞাসার জবাব প্রদান এবং বর্তমান বিভ্রান্ত সমাজ ও যুগ-চ্যালেঞ্জের সম্মুখে ইসলামের আদর্শকে সুন্দর ও চিত্তাকর্ষক করে তুলে ধরার লক্ষ্যে লিখনী ও বক্তৃতার বিশেষ প্রশিক্ষণ দান।

১০। প্রত্যেক ছাত্রের ইলমী, আমলী ও আখলাকী উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে পৃথকভাবে চেষ্টা ও পর্যালোচনা।

১১। কমপক্ষে দু’মাস অন্তর আধ্যাত্মিক বুযুর্গদের ইসলাহী বয়ান ও সবগুজারীর মাধ্যমে আমলী প্রশিক্ষণ প্রদান।

১২। সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য পাঠাগারের ব্যবস্থা।

১৩। শিক্ষার উদ্দেশ্যে শিক্ষা সফর।

১৪। সকল মাযহাব ও মানহাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল

আকাবিরদের উপরোক্ত ভাবনার আলোকে সাধারণ মানুষের জন্য আমরা নৈশ মাদ্রাসার নেসাবকে চারটি স্তরে বিভক্ত করেছি:

১. ফরযে আইন কোর্স: এ কোর্সটি এক বছর মেয়াদী। এর দ্বারা দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় বিষয়াদীর মৌলিক ধারণা সৃষ্টি হবে।

২. তরজমায়ে কুরআন কোর্স: এ কোর্সটি দু’বছর মেয়াদী। যা ফরযে আইন কোর্স

সম্পন্নকারী অথবা উক্ত কোর্সের অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদির জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য হবে। এই কোর্সে প্রয়োজনীয় পরিমাণ আরবী ভাষা (নাহব, ছরফসহ) এবং কুরআনুল কারীম পড়ে তরজমা ও অর্থ বুঝার স্বাভাবিক যোগ্যতা তৈরী হবে।

৩. আলিম কোর্স: এ কোর্সটি তিন বছর মেয়াদী। উপরোক্ত দু’টি কোর্স সম্পন্ন করার পর পূর্ণ মনোযোগিতার সাথে যথেষ্ট পরিমাণ সময় ব্যয় করে এ কোর্স সম্পন্ন করলে নিজস্ব পরিসরে কুরআন-হাদীস ও অন্যান্য ইলমী বিষয়াদীর প্রয়োজনীয় ইলমী যোগ্যতা অর্জিত হবে।

৪. তাকমীল কোর্স: এ কোর্সটি দুই বছর মেয়াদী। উপরোক্ত কোর্সসমূহ সমাপ্ত করার পর এতে হাদীসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণসহ পড়ানো হবে।

* সকল মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো

* নওমুসলিমদের শিক্ষা-সেবা ও পুনর্বাসন

* ইসলামী শিক্ষায় অনগ্রসর এলাকায় মক্তব-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা

* দাওয়াহ এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব সংক্রান্ত গবেষণা

* বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষকে দাওয়াহ প্রশিক্ষণ

* দাওয়াহ সংক্রান্ত বই-পুস্তক-পুস্তিকা ইতাদি প্রকাশ

আমাদের কোর্সসমূহ

ইলমের বাগান থেকে ঝরে যাওয়া ভাইদের জন্য বিশেষ কোর্স

যে সকল ছাত্র ভাই কওমী মাদ্রাসায় কয়েক জামাত পড়া লেখার পর পারিবারিক সমস্যা বা অন্য কোন সমস্যার কারণে পড়া শেষ করতে পারেনি। তাদের জন্য আলেম হওয়ার সু-ব্যবস্থা।

বিস্তারিত...

কেন মাদরাসাতুল হুদাকে বেছে নেবেন?

কর্মব্যস্তদের জন্য উপযোগী

দিনে যার যার কাজ—স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি, চাকরি বা ব্যবসা; আর রাতে স্বল্প সময় দ্বীনি তালিম। মাগরিব/ইশার পর বা ফজরের পর নির্ধারিত সময়ের ক্লাস হওয়ায় কেউ নিজের মূল পেশা বা পড়াশোনা ছাড়াই সহজভাবে ইলমে দীন শিখতে পারে।

অভিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত

মাদরাসাটি পরিচালিত হচ্ছে আলিম, মুফতি ও অভিজ্ঞ মুদাররিসদের তত্ত্বাবধানে। কিতাব নির্বাচন থেকে শুরু করে ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষা, কারিকুলাম— সব কিছুই কোরআন–সুন্নাহ ও আসলাফের মানহাজ অনুযায়ী সাজানো। তাই তালিবুল ইলমরা নিরাপদ, বিশুদ্ধ ও মাকবুল ইলম পাওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য পরিবেশ পায়।

ধাপে ধাপে আলেম হওয়ার সু-ব্যবস্থা

এখানে ফরজে আইন কোর্স থেকে শুরু করে তরজমাতুল কুরআন, আলিম কোর্স এবং তাকমীল পর্যন্ত ধাপে ধাপে সাজানো পূর্ণ সিলেবাস রয়েছে। যারা ইচ্ছা করলে কয়েক বছরের ধারাবাহিক মেহনতের মাধ্যমে নৈশ মাদরাসা থেকেই আলেম হওয়ার পথে অগ্রসর হতে পারে ইনশাআল্লাহ।

পরীক্ষাভিত্তিক সিস্টেম ও রেজাল্ট/পুরস্কার

প্রতিটি কোর্সে নির্দিষ্ট সময় পরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হয়, যাতে ছাত্ররা নিজের অগ্রগতি বুঝতে পারে এবং উস্তাদগণও মান যাচাই করতে পারেন। ভালো ফলাফলকারীদের জন্য থাকে বিশেষ পুরস্কার ও সম্মাননা, যা তাদেরকে আরও বেশি মনোযোগী ও পরিশ্রমী হতে উৎসাহিত করে।

আমাদের ছাত্র ভাইদের অনুভূতি

ছাত্র ভাইদের অভিব্যক্তি

অন্যান্য জেলার নৈশ মাদরাসা সমূহ

মারকাজুত তারবিয়াহ নোয়াখালী

স্কুল কলেজ ভার্সিটির ছাত্র, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পেশাজীবী ব্যবসায়ী কর্মব্যস্ত ও অবসরপ্রাপ্ত ভাইদের মাগরিব/ফজরের পর ইলমে দ্বীন শিক্ষা করে আলেম হওয়ার আদর্শ প্রতিষ্ঠান *মারকাজুত তারবিয়াহ নোয়াখালী* (আত-তারবিয়াহ নৈশ মাদরাসা)

যোগাযোগ: উস্তায আব্দুল্লাহ কাসেমী (হাফিজাহুল্লাহ)
পরিচালক: মারকাজুত তারবিয়াহ নোয়াখালী (আত-তারবিয়াহ নৈশ মাদরাসা)
বার্লিংটন মোড়, মাইজদী কোর্ট, সদর, নোয়াখালী।
01740-578870

দ্বীনি শিক্ষার সুন্দর সূচনা হোক আজ থেকেই। আপনি নিজে, আপনার সন্তান বা পরিচিত কাউকে মাদরাসাতুল হুদা দিনাজপুরে ভর্তি করতে চাইলে
নিচের অপশনগুলো থেকে বেছে নিন।

ভর্তির জন্য এখনই যোগাযোগ করুন

মাদরাসাতুল হুদা, দিনাজপুর

পুরাতন ৬ নাম্বার নিউ টাউন (তারকাটা মিলের দক্ষিণে)
দিনাজপুর সদর , দিনাজপুর

বয়স্ক ও কর্মব্যস্ত লোকদের ইলমে দ্বীন শিক্ষা করার আদর্শ প্রতিষ্ঠান। তাই দেরি না করে আজই ভর্তি হয়ে যান

যোগাযোগ 

shamimashraf2017@gmail.com

01324-105764

পুরাতন ৬ নাম্বার নিউ টাউন (তারকাটা মিলের দক্ষিণে) দিনাজপুর সদর , দিনাজপুর

কপিরাইট © 2025 মাদরাসাতুল হুদা দিনাজপুর।

×

📢 ভর্তি বিজ্ঞপ্তি 📢

নৈশ মাদরাসার নতুন শিক্ষা বর্ষ (রমজান–রমজান) ভর্তি ঘোষণা

সম্মানিত শিক্ষার্থী ভাইগণ!
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আমাদের নৈশ মাদরাসার শিক্ষা বর্ষ অন্যান্য কওমি মাদরাসার ন্যায় পবিত্র রমজান মাস থেকে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত গণনা করা হয়। সুতরাং নতুন বর্ষে ভর্তি কার্যক্রম পবিত্র রমজান মাস থেকে শুরু হবে। বরকতময় এই মাসে দ্বীনি শিক্ষা শুরু করা অধিক ফযিলত ও সওয়াবের কারণ।

📌 ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য:

📝 ভর্তি ফরম মূল্য: ১০০/- টাকা

🎓 নতুন ভর্তি ফি: ১৫০০/- টাকা

📚 পুরাতন শিক্ষার্থীদের সেশন ফি: ১০০০/- টাকা

📍 ভর্তি শুরু: ১লা রমজান

📍 শিক্ষা বর্ষ: রমজান থেকে রমজান

অতএব, আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনি ইলম অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

— কর্তৃপক্ষ
নৈশ মাদরাসা